
পুলিশ সূত্র জানায়, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ চট্টগ্রাম নগর ছেড়ে যাবেন। এতে আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসপাড়া অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বাড়ে—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে নগর পুলিশ।
সিএমপির নিরাপত্তা বলয় : সিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক অঞ্চলে নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা।
চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঈদের ছুটিতে নগর ফাঁকা হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ কারণে প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক, এটিএম বুথ, বিপণিবিতানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। আবাসিক ভবন ও হাউজিং এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নাগরিকদের জন্য সিএমপির সতর্কতা : সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ নাগরিকদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জারি করা নির্দেশনায় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিএমপি নির্দেশনায় বলা হয়, বাসা বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে দরজা-জানালায় অতিরিক্ত তালা ব্যবহার করতে হবে এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। পুলিশ সতর্ক করেছে, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান সামগ্রী ফাঁকা বাসায় রেখে যাবেন না। প্রয়োজনে এসব সামগ্রী ব্যাংক লকারে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম সিস্টেম সচল আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তাকর্মীদের এনআইডি ও ছবি সংরক্ষণ করার জন্যও বলা হয়েছে। তাছাড়া বাসা ত্যাগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসার বা থানাকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছে।
বাসা-বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক-বীমা ও বিপণি-বিতানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দায়িত্ব জোরদার করতে এবং সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের তদারকি নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক করেছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একসঙ্গে ছুটি না দিয়ে একটি অংশকে দায়িত্বে রাখতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ব্যাংক-বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিপণি-বিতানের মনিটরিংয়ের জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োজিত রাখতে এবং ভল্ট এলাকায় সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
রাতে বাসা ও প্রতিষ্ঠানের চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। তাছাড়া ভাড়াটিয়াদের আগেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসায় না থাকার বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।
বাসা বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির গ্যারেজ সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং বাসার জানালা-দরজার পাশে কোনো গাছ থাকলে অবাঞ্ছিত শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলতে বলা হয়েছে যাতে অপরাধীরা গাছের শাখা-প্রশাখা ব্যবহার করে বাসায় ঢুকতে না পারে।
ঈদে মহল্লা বা বাসায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে তা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে জানাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে রাইডিং না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সিএমপি আরও জানায়, ভ্রমণকালে অপরিচিত ব্যক্তি বা যাত্রীর দেওয়া খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা থেকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।
সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড দেখলে তাৎক্ষণিক থানায় অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিএমপি জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা সিএমপি কন্ট্রোল রুমে (সিএমপি কন্ট্রোল হটলাইন: ০১৩২০-০৫৭৯৯৮, ০১৩২০-০৫৭৯৯৯) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সিএমপি সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকেই ঈদযাত্রা, কেনাকাটা নিরাপদ রাখতে এবং যানযট নিরসনের জন্য আমাদের সিএমপির সব ইউনিট কাজ করছে। যা এখনও বহাল আছে। আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফোর্স ছুটিতে যাবে। তবে ৭৫ শতাংশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।’
তিনি জানান, প্রতিবছরের ন্যায় ফাকা বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় আমাদের টহল থাকবে। থানা-ফাড়ি পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করবে। ঈদের দিন এবং ঈদের আগের ও পরের দিন আমাদের সর্বোচ্চ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরো বলেন, ঈদবাজারে নিরাপত্তা দিতে আমাদের সবগুলো ইউনিট কাজ করছে।
চট্টগ্রাম নগরবাসীর নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া আমাদের “এস ড্রাইভ” অভিযান এখনও চলমান আছে।