স্টাফ রিপোর্টার : দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারিত হয়।
চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর দেশজুড়ে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে শনিবার উদ্যাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
চট্টগ্রাম নগরে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায়। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে।
প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী।
এ জামাতে মেয়র, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এটি নগরীর সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।
চট্টগ্রাম নগরে এ বছর প্রায় ২৬৬টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির তত্ত্বাবধানে এসব জামাতের আয়োজন করা হচ্ছে।
নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানেও পৃথকভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসন, মহানগর পুলিশ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের সহযোগিতায় ঈদ জামাতের স্থানগুলো প্রস্তুত ও সজ্জিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
এদিকে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় বিকল্প জামাত হবে।
প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন লাখের বেশি মুসল্লির অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, সড়কে ব্যানার, এবং গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে।
এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন ও বৃদ্ধাশ্রমে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র।

