স্টাফ রিপোর্টার : টানা ভারী বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়ন বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গম এসব এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে বরকলের পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলাজুড়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, শনিবারের ভারী বর্ষণে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দিয়েছে, এর মধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাঁদের গতকাল ৩৫ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বন্যায় ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জ্ঞান বিকাশ চাকমা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমিও। দুঃখজনক বিষয় হলো, বন্যাদুর্গত এলাকার খোঁজখবর নিতে বা ত্রাণ সহায়তা দিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি সেখানে যাননি।
বড় হরিণা ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রতিবিন্দু চাকমা বলেন, ইউনিয়নের কুকিছড়া বাজারসহ বহু দোকানপাট তলিয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, শনিবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকসংখ্যা বাড়ছে। আজ পর্যন্ত চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আছেন। ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন করে শুভলং ইউনিয়নও প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, আজ রোববার পর্যন্ত জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী রয়েছে ১ হাজার ৪৪টি পরিবার। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ধস ও বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যা ও পাহাড়ধসে অনেক ক্ষতি হয়েছে, তাই ক্ষতিগ্রস্তদের যত দিন প্রয়োজন তত দিন সহায়তা দেওয়া হবে; প্রয়োজনে তিন মাস পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।