ফারুক হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক খাগড়াছড়ি : পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় দুটি ঘর নির্মাণ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদ তা না করে গোপনে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের প্রকল্প পরিচালক কার্যালয়ের স্মারক নাং-১২.০১.০০০০.৯১৫.৩৬.০০১ .২৫.১৩৪৫ এর একটি অর্থ ছাড়ের বরাদ্দ পত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (বিনিয়োগ) এর মাধ্যমে ছাড়কৃত অর্থ হতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প এর আওতায় প্রশিক্ষণ খাতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১৭/০২/২০২৬খ্রী: তারিখে বিধি মোতাবেক খরচ করার নিমিত্তে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার এর অনুকূলে দুটি ঘর নির্মাণে প্রায় ৭ লক্ষ আটচল্লিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে (১৪-১৬ জুলাই) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ঘরের কোনো চিন্হ পাওয়া যায়নি। ঘর সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত উদ্দোক্তা উসিংহলা মারমা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নামে একটি মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর নির্মাণ করার কথা ছিলো। তবে দীর্ঘদিন ঘর নির্মাণ করার কোন খবরই ছিল না। আজ মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল দিয়ে বলেন আজকে আমার বাসায় ঘর নির্মাণের সরঞ্জাম আসবে কিন্তু (১২:০৫) এখন পর্যন্ত কোন সরঞ্জাম আসেনি।
এদিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াই চলছে অফিস এবং অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন প্রায় আড়াই বছর যাবৎ রাত্রিযাপন বা বসবাস করছেন খোদ অফিসেই।
অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন জানান, আমার অফিস এটা আমার বাসাও এটা। আমি এখানে থাকি আমার কাজের অগ্রগতির জন্য, কতৃপক্ষের সুবিধার্থে এবং অসুস্থতার কারণে অফিসে থাকা হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কখনো অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন এ বিষয়ে জানেন বলে জানান। আবার কখনো এ বিষয়ে তথ্য দিতে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরীর নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানান। কৃষি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন অফিসে যাত্রীযাপন করার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলে কৃষি অফিসে জাতীয় পতাকা লাগে না। এবং অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন বছরের পর বছর অফিসে বসবাস করছেন কীভাবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তাকে নৈশ প্রহরী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সময় না থাকায় এবং জুন ক্লোজিং হওয়ায় টাকা উত্তোলন করেছেন কৃষি কর্মকর্তা। শীগ্রই কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৈশ প্রহরী ব্যতীত অফিসে কোন ব্যক্তী থাকার সুযোগ নেই।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, যেহেতু কৃষি অফিস উপজেলা পরিষদের বাহিরে সুতরাং তাদের আলাদাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। প্রকল্পের কাজ না করে টাকা উত্তোলনের প্রশ্নে তিনি জেনে জানাবেন বলে জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন জানান, কাজ না বিল উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। কেনো কাজ না করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

